
ডেস্ক :
খুলনা মহানগর যুবদলের ঘোষিত ৩১টি ওয়ার্ডের আংশিক কমিটিকে ঘিরে তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক অসন্তোষ ও ক্ষোভ দানা বেঁধেছে। দীর্ঘদিন ধরে রাজপথের আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয়, মামলা-হামলার শিকার ত্যাগী নেতাকর্মীদের অবমূল্যায়ন করে ‘অপরিচিত’ ও বিতর্কিতদের গুরুত্বপূর্ণ পদে স্থান দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তীব্র সমালোচনা চলছে।অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে বিতর্কিত ব্যক্তিদের পদায়নতৃণমূল নেতাকর্মীদের দাবি, ঘোষিত কমিটিগুলোর অধিকাংশ সদস্যই রাজপথের রাজনীতিতে অপরিচিত। তাদের ভাষ্যমতে, আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত এবং বিভিন্ন অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।অভিযোগের তালিকায় থাকা কয়েকজন হলেন—১০ নম্বর ওয়ার্ড: যুগ্ম আহ্বায়ক করা হয়েছে হাজী মোহাম্মদ মহসিন কলেজ ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক রাফসান জামিলকে।১২ নম্বর ওয়ার্ড: আহ্বায়ক উজ্জ্বল দাসের বিরুদ্ধে মাদকসহ একাধিক মামলার অভিযোগ রয়েছে।১৩ নম্বর ওয়ার্ড: সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক করা হয়েছে জামালকে, যিনি যুবলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বলে অভিযোগ।১৬ নম্বর ওয়ার্ড: যুগ্ম আহ্বায়ক বিপ্লবের বিরুদ্ধে মাদক কারবারের অভিযোগ উঠেছে।২১ ও ২২ নম্বর ওয়ার্ড: ২১ নম্বর ওয়ার্ডের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক রকি ইসলাম রনি এবং ২২ নম্বর ওয়ার্ডের আহ্বায়ক মো. শহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে অতীতে যুবলীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।৩১ নম্বর ওয়ার্ড: আহ্বায়ক মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে যুবলীগের কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের অভিযোগ রয়েছে। একই কমিটির ২৪ নম্বর সদস্য কওছারউদ্দিন সুমনের বিরুদ্ধে নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা এবং অতীতে র্যাবের হাতে গ্রেপ্তারের অভিযোগও তোলা হয়েছে।ত্যাগী নেতাদের আর্তনাদ:দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত নেতারা নতুন কমিটিতে স্থান না পেয়ে হতাশ। ৩১ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সদ্য সাবেক সাধারণ সম্পাদক ইয়াকুব আলী জানান, দলের জন্য চরম ত্যাগ স্বীকার করার পরও নতুন কমিটিতে তার জায়গা হয়নি। তিনি বলেন, “কারাগারে থাকা অবস্থায় আমার সন্তানের মৃত্যু হয়েছিল। দলের জন্য এমন ত্যাগ করার পরও নতুন কমিটির অধিকাংশ সদস্যকে চিনি না।”৭ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও ফুটবলার হাসান আল মামুন জানান, বিএনপির দুঃসময়ে রাজপথে আন্দোলন করতে গিয়ে তিনি নানা নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। বর্তমানে ইজিবাইক চালিয়ে সংসার চালালেও দলের দুঃসময়ের কর্মীরা আজ অবমূল্যায়িত।নেতাকর্মীদের উদ্যোগ:মহানগর যুবদলের সাবেক ও বর্তমান একাধিক নেতা জানিয়েছেন, দলের দুর্দিনের রাজপথের যোদ্ধাদের বাদ দেওয়ায় তৃণমূলের মধ্যে হতাশা তৈরি হয়েছে। এরই মধ্যে বঞ্চিত নেতাকর্মীরা নিজেদের মধ্যে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন বলে খবর পাওয়া গেছে।এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। তবে এ বিষয়ে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেলে তা পরবর্তীতে প্রকাশ করা হবে বলে জানানো হয়েছে।
